চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা টার্মিনাল

ঘণ্টায় ৫৮ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড আরএসজিটির

সম্প্রতি এমভি ওয়ানেন নামের সিএমএ-সিজিএমের একটি জাহাজে শিপ টু শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি কনটেইনার (৮২ টিইইউ) হ্যান্ডলিং করেছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ। সম্প্রতি এমভি ওয়ানেন নামের সিএমএ-সিজিএমের একটি জাহাজে শিপ টু শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি কনটেইনার (৮২ টিইইউ) হ্যান্ডলিং করেছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৩০ কনটেইনার (৪৮ টিইইউ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। সে হিসাবে নতুন এ উৎপাদনশীলতা প্রচলিত গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। নতুন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে টার্মিনালটিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গিয়ারলেস জাহাজ পরিচালনাও হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আধুনিক পরিচালন পদ্ধতি ও দক্ষ জনবল সমন্বয়ের মাধ্যমে এ উৎপাদনশীলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। ফলে বন্দরে জাহাজ অবস্থানের সময় কমার পাশাপাশি জেটি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে ও জাহাজ-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও কমতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যারউইন হাজে বলেন, ‘ঘণ্টায় ৫৮ মুভ বা ৮২ টিইইউ হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা শুধু উৎপাদনশীলতার অর্জন নয়, বরং আধুনিক বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিচালনা ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে এ ধরনের ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।’ নিরাপদ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচালন মান আরো উন্নত করতে আরএসজিটি বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের জুনে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে দায়িত্ব দেয়া হয়। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে টার্মিনালটির সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনি সৌদিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে হারও ছিল কম। তবে অত্যাধুনিক চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন টার্মিনালের বহরে যুক্ত হওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের হার বেড়েছে দ্রুতই। আগে টার্মিনালটিতে সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ জাহাজের ক্রেন দিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হতো।

উল্লেখ্য, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের একক)।

আরও